November 21, 2019, 11:35 am

বিএনপি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা

।। রূপসা ডেস্ক ।।
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভোটের পথেই হাঁটছে বিএনপি। দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবেই ভোটে থাকবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা এ দলটি। নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে থাকবে ২০-দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দল ।
জোটের সমন্বয়ক ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ আজ রবিবার দুপুর সোয়া একটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করে এ ঘোষণা দেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২৩ ডিসেম্বরের একদিন পর বড়দিনসহ অন্যান্য কারণে তফসিল একমাস পেছানোর দাবি করছি।
অলি আহমদ বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আমরা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কর্নেল (অব.) অলি বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী সমন্বয় হবে। আমরা আশা করি, নির্বাচনের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে।
 গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আমরা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে স্থায়ী কমিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি অংশ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে অতীতের সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ চলমান সমঝোতাহীন সংলাপের উদাহরণ টানেন তারা। তবে আরেক অংশ নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাসহ নেতা-কর্মীদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির স্বার্থেই নির্বাচনে যাওয়া জরুরি বলে মনে করেন তারা। এ নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে মৃদু হট্টগোল হলেও শেষ পর্যন্ত সবাই নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন।

জানা যায়, দলের প্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক বলে জানা গেছে। পুরনো কারাগারে বেগম জিয়ার সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষাৎ করলে তাঁকে জোট ও ফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকনির্দেশনা দেন তিনি। তবে তিনি আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাবও ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। কিন্তু গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। তফসিল ঘোষণার পরও নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার হয়রানি চলছে। সরকার আবারও একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একতরফা তফসিল ঘোষণা করানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়াকে জোর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচনে যাওয়া খুবই কঠিন। ভোটের আগে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশের নিশ্চয়তা চাই।

২০ দলের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এল ডি পি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির ( কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহম্মদ ইবরাহিম, জমিতে উলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি মুফতি মোহম্মদ ওয়াক্কাস, মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী, মুসলিম লীগের চেয়ারম্যান এ এইস এম কামরুজ্জামান খান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, এনপিপির চেয়ারম্যান ড.ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাস মিয়া প্রধান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মণি, পিপলস লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহবুব হোসেন ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ।
প্রায় একই সময়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলনেও একমাস পিছিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানান ড. কামাল হোসেন।

রূপসা’র আরো সংবাদ