November 21, 2019, 11:44 am

ভারতের মারিয়া মান্ডা বাহিনী

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হলো বাংলাদেশ, ভারত চ্যাম্পিয়ন

আজ শনিবার  ভুটানের থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় আগুন ফাইনালে মারিয়া মান্ডা বাহিনী ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে। ভারতের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন সুনিতা মুন্ডা।সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হলো বাংলাদেশের মেয়েরা। টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসানো বাংলাদেশ এই প্রথম কোনো গোল হজম করল।

বাংলাদেশের মেয়েদের আর টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতা হলো না।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ বাংলাদেশ দল।

ফেবারিট তকমা নিয়েই আজকের ফাইনালে নেমেছিল বাংলাদেশের কিশোরীরা। চলতি টুর্নামেন্টে প্রথম ৩ ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতও জিতেছে ৩ ম্যাচ। তবে বাংলাদেশ যেখানে তিন ম্যাচে ২২ গোল দিয়েছে, ভারত সেখানে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে ১৫ বার। আর ভারত গোল খেয়েছিল ১টি, বাংলাদেশের গোলপোস্টে কেউই বল পাঠাতে পারেনি। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে আজ যা করে দেখালেন সুনিতা মুন্ডা।

গত আসরের ফাইনালের আগে প্রাথমিক পর্বে ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এবারের আসরে পাকিস্তানকে ১৪-০ গোলে ও নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব পার হওয়া বাংলাদেশ সেমি-ফাইনালে স্বাগতিক ভুটানকে হারায় ৫-০ গোলে। শ্রীলঙ্কা ও ভুটানকে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপের সেরা হওয়া ভারত সেমি-ফাইনালে নেপালকে হারায় ২-১ গোলে।

ফাইনালে উজ্জীবিত হয়েই খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু কোথায় কী? বরং বাংলাদেশের চেয়ে বেশি উজ্জীবিত মনে হয়েছে ভারতের মেয়েদের। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের জালে দিয়েছিল ২২টি গোল। ফাইনালের আগে গোলরক্ষক মাহমুদাকে সেভাবে পরীক্ষার মুখোমুখিই হতে হয়নি। কিন্তু অগ্নিপরীক্ষার ম্যাচেই ব্যর্থ মাহমুদা। যে দলে এত এত গোল স্কোরার সেই বাংলাদেশ আসল সময়েই জ্বলে উঠতে পারল না! চাপের কাছে ভেঙে পড়ল। গোলের মুখে গিয়ে বারবার খেই হারিয়ে ফেলল তহুরা, সাজেদা।

বেশির ভাগ সময়ই মনিকা, মারিয়া, তহুরাদের কড়া মার্কিংয়ে রেখেছিল ভারতের ফুটবলাররা। গত ম্যাচগুলোর মতো কেউই ছন্দে খেলতে পারেনি। বাংলাদেশ ভারতের পোস্টে ১১ বার শট নিয়ে একটা গোলেরও দেখা পায়নি। অথচ ভারত গোলে শট নিয়েছিল ৪টি, এর একটিতেই সফল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চাপে রাখে ভারত। ৪ মিনিটেই বাংলাদেশের জালে ঢুকতে পারত বল। বক্সের সামনে থেকে ভারতীয় মিডফিল্ডার অভিকা সিংয়ের ফ্রি কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সিল্কি দেবীর জোরালো শট গোলরক্ষক মাহমুদা কর্নারের বিনিময়ে ফেরায়। ১৭ মিনিটে সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ কিন্তু তহুরার দুর্বল হেড ধরে ফেলে ভারতের গোলরক্ষক মনীষা।

৪৩ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে শামসুন্নাহারের ক্রস, ভারতীয় গোলরক্ষক মনীষাকে একা পেয়েও সাজেদা বল তুলে দিলেন গোলপোস্টের ওপর দিয়ে! ৬১ মিনিটে তহুরার ক্রস শামসুন্নাহার বাইরে মারল। এরপর ৬৭ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে সুনীতা মুনডার ভলি, মাহমুদার মাথার ওপর দিয়ে গেল জালে।

যদিও গোল খেয়ে ম্যাচে ফিরতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ৭৬ মিনিটে মনিকার শট ক্রসবারে লাগলে আফসোসই বেড়েছে বাংলাদেশের। শেষ মিনিটে রোজিনার ক্রসে তহুরা আরেকটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু বল মাথায় লাগালেও বাইরে চলে গেল।

গত তিন ম্যাচে যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ, আজ এর ছিটেফোঁটাও খেলতে পারেনি। মাঝমাঠটা দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে ভারতের মেয়েরা। মনে হয়েছে কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগছিল মারিয়া-আঁখিরা। বারবার ভুল পাস দিয়েছে। আগের ম্যাচগুলোর মতো পাসিং ফুটবলের পসরা সাজাতে পারছিল না। আর প্রত্যাশার চেয়েও যেন ভালো খেলেছে ভারত।

রূপসা’র আরো সংবাদ